Showing posts with label অভিজ্ঞতা. Show all posts
Showing posts with label অভিজ্ঞতা. Show all posts

Saturday, April 19, 2014

আমরাই বাংলাদেশ

দুপুরের
খাওয়া শেষে টিউশনিতে যাচ্ছিলাম।
'মেনগেট ' থেকে একই অটোতে উঠল
আমার বয়সী দুইটা ছেলে।খুব সম্ভবত
রাবিতেই পড়ে।
দেখে বোঝা যাচ্ছে দুপুরে এখনও খায়
নি ওরা।আমার পাশের
ছেলেটি বিপরীতে বসা ছেলেটিকে বার
বার ওর 'মিল ' দুজনে ভাগ
করে খাওয়ার কথা বলছে। বিপরীতের
ছেলেটি রাজি হচ্ছে না। কারন
এতে প্রস্তাবকারির ভরপেট আহার
হবে না। বিকেলে কিছু
হালকা নাশতা করে নিলেই প্রবলেম
হবে না বলে আশ্বস্ত
করতে চাইছে প্রস্তাবকারি ছেলেটি।
'কাশেমের হোটেলে ' তখনও কিছু
পাওয়া যেতে পারে এই আশায় বন্ধুর
ভাগ করে খাওয়ার
প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না দ্বিতীয়
ছেলেটি।
ওদের কথোপকথনের মাঝেই
আমি নেমে গেলাম। গন্তব্য শেষ।
শেষ পর্যন্ত
ওরা ভাগাভাগি করে খেল, না একজন
'মিল ' এবং অন্যজন 'কাশেমের
হোটেলে ' খেল - সে কথা জানা হল
না আমার। তবে ওদের কথোপকথন
অসম্ভব ভালো লাগল।
ওরাই বাংলাদেশ।
ওরাই আমরা।
আমরাই বাংলাদেশ।

দ্যা বয় ইজ সো হট দ্যাট

নবম শ্রেণির ছাত্রটি আমার
ইঁচড়েপাকা। অস্ত্র বিষয়ে অদম্য
কৌতূহল।নেট থেকে গ্রেনেড,
পেট্রোল বোমা, রাইফেল
ইত্যাদি বানানোর
পদ্ধতি ডাউনলোড করে এ
বিষয়ে গবেষণা করে।কিছুদিন
আগে কাঠ, লোহা আর
স্প্রিং দিয়ে চমৎকার একটা এস -১৪
(সবুজ ২০১৪, লাইক একে -৪৭)
বানালো। মেয়েদের সাথেও ওর বেশ
ভাব, বিশেষকরে (আই গেজ) সিনিয়র
আপুদের সাথে।
আজ সকালে ওকে পড়াতে গেলাম।
Completing sentence হোমওয়ার্ক
ছিল। একটা শূন্যস্থান ছিল এরকম -
The day is so hot that ---.
তো আমার গুণধর ছাত্র day
কে পড়েছে boy আর লিখেছে -The
boy is so hot that every girl loves
him.
আমি কিছু সময়ের জন্য টাশকিত
হলেও সবখানে girl আর boy দেখার
জন্য ওর কান
দুটো আচ্ছা করে মলে দিলাম। যদিও
দোষটা ওর বয়স আর চোখের।

Thursday, April 17, 2014

বউ পেটানোর ইতিকথা

"আমার উপর দিয়ে কতা কবি, নটি? আমি কি তোর কামাই খাই? "

বউ পিটাচ্ছে ইমরান। আমি পুকুর পাড়ে বসে ইমরানের কথা, পিটানোর শব্দ আর বৌ -বাচ্চার কান্না শুনতে পাচ্ছি। ঘন গাছপালার জন্য দেখতে পাচ্ছি না। একটুপর উত্তেজনা মিইয়ে আসল। হয়ত মুরব্বিরা আপাতত থামিয়ে দিয়েছে। রাত্রেও রাস্তার দিক থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। সকালে জানতে পারালাম সামেদের ছেলে বউ পিটাতে পিটাতে বাড়ি ফিরছিল।কারন জানার কোন আগ্রহ ছিল না আমার।

সস্তা  চাইনিজ মোবাইল প্রযুক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে এসেছে গ্রামের তীরে। 'ফেসবুক' আগে শুধু উঠতি বয়সীরাই বুঝত। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর বুড়োরাও ফেসবুকে নিয়ে কথা বলছে।তবে প্রযুক্তির আগমনের পরও কমেনি সনাতন পদ্ধতিতে বৌ পিটানোর হার, বরং বেড়েছে। মানুষ শুধু নিজের বউ পিটিয়েই হাতের জালা মিটাচ্ছে না, অপরের বউয়ের গায়েও হাত তুলছে। তেমনি এক কেস নিয়ে রাতে এসেছিল আফসার ভাই। বিপক্ষ দলের কয়েকজন মিলে  তার বউকে পিটিয়েছে।আমার বড় ভাইয়ের (ইন্সপেক্টর) কাছে ফোনে পরামর্শ করতে চায়। পরামর্শের আগেই থানায় মামলা ঠুকে দিয়ে এসেছে। এখন পুলিশকে 'ম্যানেজ 'করে ঐসব লোককে শায়েস্তা করতে চায়।

দেশের বয়স বাড়ছে।নতুন নতুন প্রযুক্তিকে জীবনের অনুষঙ্গ করে নিচ্ছে মানুষ। কিন্তু সহজ -সরল জীবন যাপন ভুলতে বসেছে তারা।আংগুলের চাপে সব কাজের সহজ সমাধান পাওয়া সম্ভব হলেও মনের জটিলতার কারনে শান্তিতে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে।

এ জার্নি বাই ট্রেন

ছোটকাল থেকেই আমাদের অঞ্চলে (কালুখালি -ভাটিয়াপাড়া) ট্রেন লাইন দেখে আসছি। তবে সেই লাইনের উপর দিয়ে কখনও ট্রেন চলতে দেখিনি।অনেক বছর পর এ লাইনে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।সেই ট্রেনে চড়ে বাড়ি যাচ্ছি।স্বাভাবিকভাবেই সব কিছু বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখতে দেখতে যাচ্ছি। প্রথমে যখন সিটের উপর বসলাম, পশ্চাদদেশের পতনটা বেশ জোরেশোরেই হল। সিটের গদিটা আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারল না।কারন তার মধ্যে আমার ধারণা থেকেও অনেক কম ছোবড়া ছিল। বুঝলাম, এখানে কারসাজি হয়েছে। এবার আশেপাশে তাকানোর পালা।এদিকওদিক তাকিয়ে দেখি পঞ্চাশ পার করা মানুষের মাথার চুলের মত সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আয়েশ করে বসেছে। আমার মুখোমুখি সিটের ধামড়া শিশু সন্তানটি জুতাসমেত সিটের উপর বান্দর বান্দর খেলছে। বাদাম খেয়ে খোসা  ট্রেনের ভিতর ফেলতে থাকা মা তার নির্বিকার।  ট্রেন চলা শুরু হল।প্রচুর ধুলা উড়ছে। দাঁতের সাথে দাঁত মিশিয়ে পাটা -পুতোর মত ঘষতে যেয়ে বালির  কিচকিচানিতে দারুন শিহরিত হলাম। নতুন লাইন বিধায় এত ধুলো উড়ছে। জানালার কাঁচ বহু কসরত করেও নামাতে পারলাম না। বুঝলাম, কাঁচ নামাতে হলে 'ব্রেক ফার্স্টে ডানো মাস্ট '। যাহোক,  মোবাইলের স্ক্রিন মুছতে মুছতে অভিজ্ঞতা লিখতে থাকলাম। একপর্যায়ে সাদা সাদা ছোপ পড়ে যাওয়া নেভি ব্লু পোশাকের পুলিশ সাহেবটি বাদাম খেতে থাকা মায়ের টিকিট দেখতে চাইল। রেলওয়ে পুলিশের কাজ আইন শৃংখলা পরিস্থিতির দেখভাল করা।টিকিট চেক করার জন্য আলাদা লোক আছে। বুঝলাম, এই স্বেচ্ছাশ্রমের পিছনে ঘাপলা আছে। চোখ -কান আরেকটু প্রসারিত করে জানা গেল অনেকেই টিকিট না কেটে  মাছের বাজার স্টাইলে পুলিশের সাথে দরদাম করছে।বুঝলাম, সরকারকে হাওয়াই মিঠা খাইয়ে এরা নিয়মিত (নাটোরের) কাঁচাগোল্লা খেয়ে যাচ্ছে। কাঁচাগোল্লার কথা ভাবতে ভাবতে এক কাদি কাঁচকলাসহ এক যুবককে ট্রেনে উঠতে দেখলাম।তিনি এক সিটে বসলেন, কষ ঝরতে থাকা কলার কাদি রাখলেন আরেক সিটে।বুঝলাম, কোন এক মহারাজার খাস তালুকে ভুল করে ঢুকে পড়েছি।তবে ভুল করি আর যাই করি, খুব সহজ পথে যোহরের আজান শুনতে শুনতে বাড়ি পৌছে গেলাম।

আজ বুঝতে পারছি  এই লাইনে কেন নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।আরও বুঝতে পারছি, কয়েক বছর পর এই লাইনের ট্রেন চলাচল কেন আবার বন্ধ হয়ে যাবে।

তাই বলছি, শুধু সরকারের দোষ দিয়ে লাভ নাই। আগে নিজের ছিদ্রগুলোতে নিজের হাতে ঢুকানো বাঁশগুলো বের করে নিন।তারপর শুরু করা যাবে সমৃদ্ধির পথে চলা।