Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Monday, June 10, 2019

জারজ

অনৈতিক বীর্যের ফসলই কেবল জারজ নয়-
আপনার যে সন্তানটি
শিক্ষক নামের দ্বিতীয় পিতার গায়ে
সমাজ ধ্বসে পড়া নির্মম লাথি মারে,
সে সন্তানটি জারজ।
শতবার ডি এন এ টেস্টও
মিলবে না তার পিতৃপরিচয়।
অনৈতিক বীর্যের ফসলই কেবল জারজ নয়-
আপনার যে সন্তানটি
মানুষ গড়ার স্বপ্নবাজের পবিত্র গর্দানে
চালিয়ে দেয় শতাব্দির নোংরাতম হাত,
সে সন্তানটি জারজ।
পবিত্র কাবার কসমেও
মিলবে না তার পিতৃপরিচয়।
অনৈতিক বীর্যের ফসলই কেবল জারজ নয়-
আপনার যে সন্তানটির মগজহীন আস্ফালন
অসুরের ক্ষমতার চাবিকাঠি হয়,
সে সন্তানটি জারজ।
শত আপিলেও মিলবে না তার পিতৃপরিচয়।
#আমিই_মাসুদ

Thursday, November 8, 2018

বৈপরীত্য

দিনের আলোয় ঘটে যে
বোধের সালোকসংশ্লেষণ,
রাতের আঁধারে তা নেতিয়ে পড়ে
বিপরীত বোধের নীল দংশনে;
মসজিদ, মন্দিরে জন্ম নেয়া পবিত্রতা
সম্ভ্রম হারায় কালো টাকার ময়লা স্তুপে;
চড়া দামে বিক্রি হয় বিদেশী মানবতা;
দেশি শিশুরা এঁটো খেয়ে বাঁচে
ছাল-উঠে যাওয়া কুকুরের সাথে;
আর শহুরে আলোর উৎসবে নামে
জীবনানন্দের অদ্ভুত আঁধার।

Monday, September 10, 2018

যে আসে নি

যে আসে নি : একটি শোকগাথা
(পাঁচ বছর আগে, এই দিনে)

কথা ছিল আসবি তুই সময় মত।
সময় কমছিল আর বাড়ছিল কল্পনার মেদ-
কার মত হবিরে তুই? দাদা-কাকার মত
মোটা নেকো হস না, দাদি কিংবা বাবার মত
নাক উঁচু হোক তোর।
তবে বিনয়ের নাক যেন মোটাই থাকে।

সাত বছরের বোনটি তোর বড়ই একা।
পুতুল তার ভালো লাগে না মোটেও;
ওরা ওর হাত ধরতে পারে না,
পারে না ছুঁয়ে যেতে ছোট্ট মনের অভিমান, আবেগ।
তুই কি ওর পুতুল হবি? মানব পুতুল?
ব্যাটারি ছাড়াই হাসবি খিলখিলিয়ে;
-ঘরের এমন জায়গায় লুকাবি যেন
হাজার চেষ্টাতেও খুঁজে না পায়;
তারপর সহসা ঝাঁপিয়ে পড়বি ঘাড়ে।
পিলে চমকে যাবে ওর।

আচ্ছা, কী বলে ডাকবি আমায়?
‘কাক্কু’, ‘কাকা' না ‘ছোট কাকু’ বলে?
যা বলেই ডাকিস, প্রাণ ছুঁয়ে যাবে আমার।
ঘাড়ের দখল ছেড়ে দেবে আয়েশা, আনিশা।
(তোর বোন তো ছেড়েছে আগেই।)
শক্ত হয়ে বসে থাকিস, ঘাড়ে বসেই ছিঁড়িস
গাছের নুয়ে পড়া পাতা, ছুঁয়ে দিস উঁচুতে রাখা বইগুলো সব,
কেড়ে নিস দাদার মাথার টুপি, বাবার ক্যাপ।
বড়দের থেকেও তোর হাত অ--নে—ক উপরে-
ভাবতেই হেব্বি মজা পাবি।

ছেলে যদি হস তুই, ফাটিয়ে দিবি।
আমার পরে আর ছেলে নেই  এ গোষ্ঠীতে।
ঘাড়ে বসেই শাসাতে পারবি সবক’টিকে।
আর মেয়ে হলে টেক্কা দেয়া টাফ হয়ে যাবে।
ইলিনা, আনিশা আর আয়শার কিন্তু অনেক গুণ-
বোনটি তোর নামতা পারে না মোটেও।
তবে কম্পিউটারের বোতাম টেপে ঝড়ের বেগে;
বুড়ো কম্পিউটারটা হাঁপিয়ে উঠে যখন তখন।
অন্যদিকে আনিশা পাকা পাকা কথা বলে;
মায়ের সাথে স্কুলে যায়, স্কুলে খায়, ঘুমায়,
আর নানির সাথে বড় বড় ছড়া আওড়ায়;
একটা লাইনও এদিক-সেদিক হয় না।
আয়েশার কথা কী বলব আর? বলার মত
বড় হয় নি; সব কিছুতেই মুচকি হাসে।
বিধাতা যেন আমাদের প্রতি মুচকি হেসে
ওর প্রতি অট্টহাসি হেসেছে। এত সুন্দর!
রাঙাপরী হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

সবাইকে ছাপিয়ে তুই অ-নে-ক  বড় হবি;
দেহে কিংবা চেহারায় নয়; হয়তো লেখাপড়াতেও নয়;
বড় হবি চেতনার শুদ্ধতায়, দেশ প্রেমের বোকা বোকা আবেগে,
আর মনুষ্যত্বের নরম দুর্বলতায়।
বড় হবি কাউকে ছোট না করে।

-এমনি করে বাড়তে থাকে কল্পনার মেদ,
আর সময় হতে থাকে শেষ।
তারপর আচমকা আসে এক অভিশপ্ত ফোন।
সময় অসীমের সাথে আঁতাত করে,
কল্পনাগুলো সময়ের আঁচলে মুখ লুকাতে ব্যর্থ হয়ে
পরিহাসের মালা হয়ে ঝুলতে থাকে আমার গলে।

ও খোকা! ও খুকি! এভাবে ফাঁকি দিলি কেন?
বিধাতার কাছে নতজানু হয়ে সময় বাড়াতে পারলি না?
দেখতে ইচ্ছে হল না প্রিয় মুখগুলো তোর?
আর আমার কবিতা-  কত শখ ছিল তোকে পড়ে শোনাব,
কন্ঠে তুলে দিব সবার আগে।
আর তোর জন্ম দিনে লিখে ফেলব এক মহাকাব্য।
একি করলি খোকা/খুকি তুই?
পাঁচ মাসেই মায়ের ভিতর চিরতরে ঘুমিয়ে গেলি?
আহারে! কত কিছুর মরন ঘটালি তুই।

Wednesday, June 20, 2018

প্রাপ্তির উপভোগে

প্রাপ্তির উপভোগে কমে অপ্রাপ্তির গাম্ভীর্য;
না পাওয়াটা তাই দীর্ঘায়িত হোক।
তোমাদের উদ্যাপনে থাকবো আমি রেফারির মত;
কথা দিলাম, করবো না শোক।

Wednesday, August 5, 2015

বরষা

তির তির অবিরাম, একটানা ঝরছে
আকাশের মুখ থেকে দুখ নাহি সরছে
পরিবেশ গম্ভীর, যেন গেছে চুপসে
বোঝা দায় সূর্যটা উঠছে না ডুবছে
জানালাটা জল খেয়ে হারাচ্ছে শোভা তার
সেলফিতে আলো নেই, নেই সেই প্রভা তার
শ্রমিকের মনে নেই আমোদের লেশটাও
কাজ নেই, নেই তাই জীবিকার চেষ্টাও
পাখিদের ডানা ভরা না উড়ার কষ্ট
ভিজে ভিজে বাসাগুলো হয়ে যাবে নষ্ট?
গরমের তেজ নেই, লাগছে না তৃষ্ণা
এই দিনে প্রিয়জন দূরে ঠেলে দিস না
এক হাতে তুলে নে কফি ভরা কাপটা
আর হাতে ছুঁয়ে দে বৃষ্টির ঝাপটা।

Thursday, October 30, 2014

এভাবে তাকিয়ো না আর

এভাবে  তাকিয়ো না আর -
হৃদয়ে ভূমিধস হবে;
চেতনার লোডশেডিংয়ে
বিপন্ন হবে ভাবের উৎপাদন ;
গুজবের মত নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়বে কৈশিক জালিকাতেও;
মগজের তলদেশ নাড়িয়ে দেবে
একরাশ বিহ্বলতা;
কবিতারা তখন গদ্য হয়ে যাবে।
এভাবে তাকিয়ো না আর।

Friday, August 15, 2014

মহাকাব্য নও

মহাকাব্য হঠ্যাৎ শুরু হয়।
তোমার শুরু একদিনে হয় নি -
একদিনে তুমি হও নি 'বঙবন্ধু ',
একদিনে তুমি হও নি 'শেখ ';
তোমার 'মহামহা নামা '
লিখিত আছে
বাংলাদেশের
প্রতি নিঃশ্বাসে।
আমরা পরম ভক্তিতে সেই
লেখা পড়ি।
মহাকাব্যের অনেক নায়ক।
এদেশের নায়ক তুমি একজনই।
তোমার মত তর্জনী উঁচিয়ে
৭ মার্চের স্বপ্ন দেখে বিপ্লবীরা ;
তোমার মত ব্যাক ব্রাশ
করতে গিয়ে দেরি করে ফেলে প্রেমিকেরা;
আর দেশের কথা ভাবতে গিয়ে
তরুন -তরুনীরা মুজিব হতে চায়।
মহাকাব্যে মহাকবিদের স্থান
নেই।
তোমার মহামহা কাব্যে লেখক,
নায়ক -সবই তুমি।
তোমার প্রতিটি কথা, ভাষণ,
ভাবনা, জীবনের খুঁটিনাটি
সে কাব্যের প্রাঞ্জল ভাষা ;
তোমার ত্যাগ
বা জীবনক্ষয়ী সংগ্রাম
সে ক্যাব্যের সোনালি পৃষ্ঠা ;
মানুষের প্রতি তোমার
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
সে কাব্যের মজবুত বাঁধাই।
তাই তুমি মহাকাব্য নও,
তার থেকেও অনেক বড়।

Monday, August 4, 2014

তিন অংগের ধাঁধাঁ

পৃথিবীর সব রহস্য মানবদেহের
তিনটি অংগ থেকে সৃষ্টি হয়।
প্রথম আর দ্বিতীয়টিকে অংগই বলা যায়,
তৃতীয়টি যে ঠিক কী
তা আমি নিজেই জানি না।
তৃতীয় অংগটির নানাবিধ সুক্ষ্ণ  আলোড়নে
এই লেখাটি লিখতে পারছি ;
আর প্রথম দুটির হঠ্যাৎ হঠ্যাৎ আলোড়নে
প্রতি মুহূর্তে সৃষ্টি হয় নানান বোধ,
কখনো কখনো অক্ষমতা অথবা 'আহ! ' থেকে ও অনেক বড় তৃপ্তি।
মাঝে মাঝে যুদ্ধ বিরতির মত
এ অংগ দুটিতেও ঝড় বিরতি ঘটে।
এ সময়টাতে  উভয় অংগে
জমা হয় তীব্র আক্রোশ -কণা ;
তৃতীয় অংগটি তখন কোমায় থাকে ;
আর প্রথম দুটির সুনামীর ঢেউ
প্রতিটি দেহকোষকে নিমজ্জিত করে।
নামাজের কাতারের মত এই পর্যায়ে এসে ধনী,  গরিব, সুশীল, ডাকাত - সবাই সমান।
মাঝে মাঝে অবশ্য তৃতীয় অংগটি প্রথম দুটিকে বাগে আনতে চায়,
তবে হাস্যকরভাবে নিজেই গৃহপালিত হয়ে পড়ে।

তৃতীয় অংগটির প্রতিনিধি হয়ে লিখছি আমি,
কিংবা 'আমি 'ই তৃতীয় অংগটি।
প্রথম দুটিকে অবশ্যই থামাতে হবে ;
নইলে ৭ নং বিপদ সংকেত।
কিন্তু কিভাবে থামাবো?
মানুষ এ প্রশ্নের উত্তর জানলে
ট্রয় নগরী ধ্বংস হতো না।

Thursday, April 24, 2014

দয়া কর, ভিজে বাঁচি

কাক আর ডাকছে না কা -কা,
পুকুরে কাদাও নেই,
মাঠ করে খা -খা,
প্রকৃতির মন নেই ভালো,
বাতাসটা কোথা যে হারালো!
পাতাগুলো সেই শোকে
নড়ে নাকো আর ;
ভান্ডার খোল প্রভু অসীম কৃপার।
আকাশের মন কর ভারি,
নয়নে ঝরাও তার অজস্র বারি;
দয়া কর -ভিজে বাঁচি -জল দাও জল ;
অনন্ত, অসীম তুমি ; মোরা হীনবল।

Sunday, April 20, 2014

সঞ্চারিছ হাজার আশা

সঞ্চারিছ হাজার আশা হে শুভ নববর্ষ,
আশা বিশ্বে আসবে শান্তি, চিত্তে আসবে হর্ষ।
বিগত দিনের গ্লানিময়তায় জীবন হয়েছে তিক্ত;
তোমার নব ঝরনা ধারায় কর এ জীবন সিক্ত।
আত্মভোলা পথিক মোরা পাইনি পথের দিশা,
ঘুরেছি ঘোরের কণ্টক পথে, দেখেছি অমানিশা,
জীবন হয়েছে হতাশায় ভরা নিদারুন একঘেয়ে,
আবার আশায় বাঁধিয়াছি বুক তোমার পানে চেয়ে।
বিশ্বটা আজ ধু ধু বালুচর,অনাকাংখিত খরা;
বৃষ্টি রুপে নেমে এসে তুমি সজীব কর ধরা।
গড় উদ্যান হাজার ফুলের যেথা আছে মরুভূমি;

বিবেকের মৃত্যুর হাজার বছর পূর্তি

কিছু মরণ হরণ করে ভাল লাগা বা ভাল
থাকার সুখানুভূতি,
মগজের তলদেশ
নাড়িয়ে ঘোলা করে চেতনার শুদ্ধতা,
পোশাকের সব গিঁট খুলে নগ্ন করে দেয়
আমাদের সভ্যতাকে।
কুকুর তখন দাবি করে, “আমিই আশরাফুল
মাখলুকাত।"
ঢুলু ঢুলু চোখে আমরা মেনে নেই সেই
দাবি।
পরক্ষনেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি মসজিদ-
মন্দিরে,
বিবেকের মৃত্যুর হাজার বছর পূর্তিতে
সিন্নির রমরমা আয়োজনে।

Saturday, April 19, 2014

ওম শান্তি!

আরো হতে হবে সংযত,
শালীনতা যেন মোর হয়
না বিগত ;
অন্যের অনুভূতি সহসা মাড়ালে
ঘৃণা শুধু পেয়ে যাব সমুখে,
আড়ালে ;
দেশপ্রেম, প্রতিবাদ মার্জিত
হবে ;
ভালোবাসা, সম্মান উপার্জিত
হবে।
তাই বলে নতজানু কভু নাহি হব;
দেশপ্রেমে সর্বদা জাগ্রত রব।

প্রার্থনা

রহম কর প্রভু।
আমার দু’চোখ অন্ধ করে দাও।
শুধুই যেন আঁধার দেখতে পাই।
অনুভূতির আসা-যাওয়া বন্ধ করে দাও,
কর মোরে আগুন শেষের ছাই।
এই বিজয়ের চিহ্ন দেখে তখন
দু’চোখ দিয়ে গড়াবে না জল,
পুঞ্জীভূত ক্ষোভগুলো আর কভু
হবেনাকো আমার লেখার বল।
আমার ঘৃণা শুকিয়ে যাবে বুকে,
ঝরবে না আর মুখের থু থু হয়ে;
রক্ত আমার নাচবেনাতো আর,
যাবে শুধু ধীর গতিতে বয়ে।
অসাড় হয়ে রইব ঘরের কোণে,
দেখবনা আর কালোর আলো খাওয়া;
দেখবনা আর হঠাৎ সকাল বেলা
মিথ্যাগুলোর সত্য হয়ে যাওয়া।
এরই মাঝে আসুক তোমার ডাক,
মাটির সাথে বিলীন হতে চাই।
মাটির উপর চালাক শাসনকাজ
হীরক রাজার জ্ঞাতি কোন ভাই।

দুঃখিনী চেতনা

ভাইজান,অল্প দামে ছেড়ে দিচ্ছি, কিনবেন?
-কিভাবে চিনবেন?
-ভালো চেতনা চেনারতো উপায় নেই;
এই আমাকেই-
করুন বিশ্বাস। ঠকাবো না।
অনেক কষ্টে বুনেছিলাম চেতনার সোনা
যেদিন বুঝতে শিখেছিলাম, সেদিন।
বড় হয়েছি, আর তিলে তিলে বড় করেছি যাকে
এখন সেই চেতনাকে-
বেচে দিচ্ছি পানির দামে।
-নানা না, আর নেই,
বুঝেনিতো মধ্যবিত্তের ঘর;
একটাই চেতনা ছিল, আর সব পর।
অনেক কিছু হারিয়েছি জীবন থেকে-
কবিতার খাতা, প্রেমিকা, ডাক্তার হওয়ার সম্ভাবনা।
তবু বড় হয়েছি স্বপ্ন দেখে-
চেতনার শৌর্যে গড়া রঙিন স্বপ্ন।
-কেন তবে দিচ্ছি বেঁচে?
সে অনেক কথা, সংক্ষেপে বলি
কেন দেওয়া এই জলাঞ্জলি-
শকুন বেড়ে গেছে দেশে,
দল বেঁধে এসে
হাড্ডিসার চেতনাকে করতে চায়
জীবন্ত সাবাড়।
বেচবো না আবার!
আরেক কথা, না বললেই নয়;
দিতেই হবে সততার পরিচয়।
এখনও যে চেতনাটা আমার কাছে!
ভয়হয় পাছে-
-কী যে বলেন! কাঁদবো কেন?
কিসের আবার ভয়-
-আচ্ছা, আচ্ছা, আর ভণিতা নয়,
বলছি খুলে-
পথ ভুলে
৪২ বছরের চেতনা আমার
আঁধার গলিতে হারিয়েছিল দিক,
পুরনো শক্রু চিনে নিল তাকে ঠিক।
তারপর সব শেষ-
দুই লক্ষ কিংবা তারও বেশি সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি,
চেতনার এলোমেলো বেশ।
-কী বলেন! এত কম দাম?
ধর্ষিত চেতনার মূল্য নেই?
সত্য বলার মূল্য দিলেন এই!
-আচ্ছা, যাহোক,
আপনি ভদ্রলোক
আ্যান্টিকের আচ্ছা সমঝদার
কয়েক টাকা বাড়িয়ে দিন না! আর-
-আচ্ছা,আচ্ছা, দিন
এইনিন-
-কোথায় রাখবেন?
মগজে রাখতে না পারলে
রাখুন শো কেসে।
একদিন, বহু দিন শেষে
দেখব এসে
কেমন আছে দুঃখিনী চেতনা আমার।
১৬/০৭/২০১৩,রাত২.০৫,সেলিম মঞ্জিল, রাজশাহী

শুয়োরের বাচ্চা!!!

বেশি বড় গালি দিতে পারি না ; কোন
এক ব্যারিকেডে আটকা পড়ে অশ্রাব্য
শব্দের ঢেউ। সাধ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগে,
ভান্ডারের সবটুকু ঘৃণা ঢেলে উচ্চারিলাম
দুটি শব্দ - শুয়োরের বাচ্চা।
যারা এই নিষ্পাপ শিশুর চোখের
জলে খুঁজে নেয় স্বার্থের উপাদান,
তারা শুয়োরের বাচ্চা।
যারা লোটে তার আর দশটা মুসলমান
শিশুর মত বেড়ে উঠার অধিকার,
তারা শুয়োরের বাচ্চা।
যারা তার ছোট্ট মগজে ঢুকিয়ে দেয়, "এ
দেশ হিঁদুদের নয়", তারা শুয়োরের
বাচ্চা।
সুশীলেরা হয়তো করবেন রাগ, ভাববেন, এ
কেমন অভদ্র বচন!
তবু আমি আকাশ -বাতাস
কাঁপিয়ে দিয়ে যাব গালি -
শুয়োরের বাচ্চা!!
শুয়োরের বাচ্চা!!!
শুয়োরের বাচ্চ!!!!!!!!
এছাড়া আর কী - ইবা করতে পারি!

এ আমার হৃদয় ছেড়া মিনতি

এখনও রোহিঙ্গা, মালাউন
বা অন্যান্য
বেধর্মী হয়ে উঠেনি ওরা;
কোরআন, বাইবেল, গীতা, ত্রিপিটক
ওদের কাছে শুধুই কাগজের
মহাসমাবেশ;
তোমাদের মত রাজাকার, সুশীল,
জাতীয়তাবাদী, প্রগতিশীল
ইত্যাদি পন্থায় গাঁটকাটা শিখতেও
ঢের আছে বাকি;
ওদের রাজত্ব মাকে ঘিরে, মা-ই
ওদের দেবী।
তোমাদের প্রাসাদের
প্রতিটি ইটে রুটি-গোশতের ঘ্রাণ।
ওদের, তোমাদের বিস্তর ব্যবধান।
তোমাদের স্বার্থের রাক্ষস মাছ
গিলে খায় নিরীহের শান্তির ঘুম;
তোমরা ধর্ম ঘেঁটে এইডসেরও ওষুধ
বাট,
গড়ে তোল টোটকার মহাকারবার;
তোমাদের
উপচে পড়া জ্ঞানে অজ্ঞান হয়
ধর্ষিতা মানবতা।
ওরা রঙ্গিন চশমায় বিশ্ব দেখে;
ওদের পৃথিবী ঝকঝকে খেলাঘর;
তোমাদের কুৎসিত রূপ
ধরা পড়ে না ওদের চশমায়;
ওরা প্রকৃতির মুখপাত্র,ওদের হাসি,
কান্না বা বিস্ময়
ফুটিয়ে তোলে খোদার নিষ্পাপ
সৌন্দর্য।
সকল কুটিলতা নিয়ে দূরে গিয়ে মর
তোমরা;
ঈমানের টাকায় কেন
জান্নাতে বাড়ি,
পোপ থেকে নিয়ে আস পাপ-
মুক্তি সনদ,
কিংবা জঙ্গলে যাও-
ন্যাংটা হয়ে কর সিদ্ধির ধ্যান;
রাগী বউয়ের চাকর হও,
অথবা পৌরুষের জং ঘষে ফেল বউ
পিটিয়ে;
পার্কে এবং জেলে যাও,
যাও গান, নেশা আর ওয়াজের
মাহফিলে;
পাঁচশত টাকায় মিটিয়ে আস আদিম
জ্বালা-
যার যা খুশি কর,
শুধু ওদেরকে ওদের জগত
নিয়ে থাকতে দাও।
এ আমার হৃদয়ছেড়া মিনতি।

এসো হে

গর গর গররর --
ডেকে যায় সব মেঘ ;
কেন এত রাগ
করে না তা উল্লেখ।
থেকে থেকে রাগ
ক্রমেই তাদের বাড়ে,
মেঘের দেহে লুকিয়ে তখন
সূর্যটা হাফ ছাড়ে।
ডানায় গতির ছন্দ তুলে
নাম না জানা পাখি
খবর ছড়ায় চারিদিকে -
বৈশাখী ! বৈশাখী !
তৃষ্ণা -কাতর এই পৃথিবী
সেই পাখিদের ডাকে
খুশির ভাবটা গোপন রেখে
সজাগ বসে থাকে।
এমন সময় কোথা থেকে
ঝুম ঝুমা ঝুম ঝুম
জলের ডাকে অস্বস্তি সব
যায় হয়ে যায় গুম।
জল আর মাটির হঠ্যাৎ মিলন
তীব্র নেশার ঘ্রাণ ;
আমিও তবে মাতাল হব, রাঙাবো এই
প্রাণ।

যাত্রা

অপ্রাপ্তির মাঝারি বাক্স -৫টি
হতাশার কালো বড় বাক্স -১টি
আত্ববিশ্বাসের
অভাবে ভরা জংধরা টিনের বাক্স
-১টি,
মন খারাপের নীল পোটলা -১টি
উদ্যমহীনতা, লোভ জাতীয় ছোট ছোট
দুর্বলতা, দ্বিধা ইত্যাদিতে ঠাসা বড়
কাপড়ের ব্যাগ -১টি -
গুনেগুনে মোট ৯টি ব্যাগ চাপালাম
বুড়ো সূর্যের কড়া পড়া কাঁধে।
এতক্ষণে হয়তো পশ্চিমের শেষ
সীমানায় পৌছে গেছে সে।
সময়ের গহবরের আবর্জনা শাখায়
আমার মালামালসহ নিজের নামটাও
লিখিয়ে ফেলেছে হয়তো।
তার কথা থাক।
পূব দিক দিয়ে আসবে নতুন সূর্য।
সম্ভাবনার বড় বড় বাক্স নিয়ে।
তাঁর প্রতীক্ষায় কাটাবো নির্ঘুম
রাত।
সবার আগে তাঁকে স্বাগত
জানাতে চাই।

দেখে লেখা

জরাজীর্ণ
গামছা কাঁধে হেটে চলেছে বুড়ো মানুষটি,খুবই
আস্তে,
যেন কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই
তার।
হয়তো কাধের গামছার মত
তারও গুরুত্ব কমে এসেছে।
তাই হেটেও হাটছে না সে।
পরিচর্যাহীন পায়ে তার রাজ্যের
আলসেমি।
ছোট্ট মেয়েটির কাধে ভারি ব্যাগ।
দৌড়ে দৌড়ে স্কুলে যাচ্ছে সে।
হঠ্যাৎ হোচট খেল।
যত দ্রুত পড়ল তার থেকে আরও দ্রুত
উঠে দাঁড়াল।
তারপর আরও
গতি তুলে সবুজে হারিয়ে গেল সে।
এভাবে প্রতিটি হোচট আরও
গতি বাড়িয়ে দিক ওর।
আমরা যারা হোচট খেয়ে আর
উঠে দাঁড়াতে পারিনি,
তাদের পক্ষ থেকে ওর জন্য রইল
শুভকামনা।
কিশোরী মা দাঁড়িয়ে আছে।
ট্রেনটিও কি এক
কারনে দাড়িয়ে গেল।
আবার তাকিয়ে দেখা গেল
শিশুটি তার।
আঁচলে জড়ানো মমতাকে পাশ
কাটিয়ে ছোট মাথা বের করে বড়
পৃথিবীর আবাক কান্ড দেখছে সে।
আর হেসে উঠছে মায়ের
ন্যাকা ন্যাকা কথায়।
প্রমত্তা নদীতে চর পড়ুক,
মাটিখেকো হয়ে উঠুক মরা নদীটি,
সময়ের
চাপে বুড়ো পৃথিবী খোসা পালটাক,
তবুও টিকে থাকুক মা - ছেলের
এই রসায়ন।