Showing posts with label গদ্য. Show all posts
Showing posts with label গদ্য. Show all posts

Friday, May 25, 2018

ফেসবুক বিধিমালা

এই লেখাটি না পড়ে লাইক দেয়া নিষেধ। লেখাটির টার্গেট অডিয়েন্স ফেসবুকের স্বল্প পরিচিত বা অপরিচিত বন্ধু, ছোট ভাই-বোন, ছাত্র-ছাত্রী, নতুন বন্ধু।
ফেসবুকে আমার সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখার গাইডলাইন:
১. কে বেশি জনপ্রিয়(রাজনৈতিক)/শাশুড়ি ভার্সেস বউ/ছেলে ভার্সেস মেয়ে ইত্যাদি পোস্ট বা ছবি দেখলে পোস্টদাতাকে আনফলো করবো।
২। আমি সরাসরি জড়িত নেই এমন কোন পোস্ট বা ছবিতে আমাকে ট্যাগ করা যাবে না।
৩।সামাজিক কল্যাণকর /রক্ত দান কেন্দ্রিক/জনসচেতনতা বিষয়ক/শিক্ষা সংক্রান্ত গ্রুপ ব্যতিত অন্য কোন গ্রুপে ইনভাইট করা যাবে না।
৪। ধর্মের নামে হিংসাত্মক বা গুজব ছড়ানো কোন পোস্ট দিলে বা শেয়ার করলে সংগে সংগে ব্লক করবো।
৫।সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক কোন ছবি বা পোস্ট/ ধূমপান বা মদ্যপান বা মদের বোতল নিয়ে পোজ দেয়া ছবি দেখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আনফলো/ ব্লক করবো।
৬। আমি মেসেঞ্জারের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখি। বিনা প্রয়োজনে, শুধুমাত্র খোশগল্পের জন্য মেসেঞ্জারে হাই/হ্যালো/আসসালামু আলাইকুম/ কি করেন ইত্যাদি লেখা যাবে না বা পোক করা যাবে না।
৭। বাস্তব জীবনে পরিচিত না হলে আমি কারও  ভিডিও কলে সাড়া দেই না।
৮। আজকে ক্লাস বা প্রাক্টিকাল হবে কিনা/অমুক  স্যার আছে কি না/ কলেজ বন্ধ কি না/ফর্ম ফিল আপ, উপবৃত্তি এবং  অন্যান্য অফিসিয়াল কাজ করা যাবে কিনা ইত্যাদি  মেসেঞ্জারে জানতে  চাইলে সময়মত জবাব পাওয়া যাবে না। এসকল বিষয়ের জন্য ফোন করতে হবে। যথাসাধ্য সাহায্য করব।
৯।পড়ালেখা বা বিপদ-আপদে আমাকে ঘুমানোর সময় বাদে যে কোন সময় নক করা যাবে। খুব জরুরি প্র‍য়োজনে মোবাইলে ফোন করলে দ্রুত যথাসাধ্য সাহায্য করব। মেসেঞ্জার/ইমো ইত্যাদির নকে কোন গ্যারান্টি নাই।
১০। আমি কি করি, কোথায় থাকি জানতে চেয়ে মেসেঞ্জারে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। প্রোফাইলে সব তথ্য দেওয়া আছে।
১১। বেনামের ফেবু রিকোয়েস্ট ডিলিট করে দেই। তাই জন্মসূত্রে পাওয়া  নাম ব্যবহার করতে আপত্তি থাকলে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর দরকার নেই।
১২। রক্তদানের ছবি বা পোস্ট/পরিবারের সদস্যদের সাথে ছবি বা তাদেরকে নিয়ে পোস্ট/শিশুদের সাথে ছবি আমার অনেক ভালো লাগে। এসকল ছবিতে/পোস্টে বেশি বেশি লাইক দিতে চাই, কমেন্ট করতে চাই। (কিন্তু একটার বেশি লাইক দেওয়া যায় না!)

Thursday, April 26, 2018

এইচ এস সি পরামর্শ

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছাত্রছাত্রী ভাইবোনদের জন্য অশেষ শুভ কামনা ও কিছু পরামর্শ-
১।  যারা এখন ফেসবুকে আছো, এই পোস্টটি পড়ার পর পরীক্ষার এই দেড় মাস ফেসবুক বাদ দাও। পরীক্ষাকালীন সময় ফেসবুক হচ্ছে গুজববুক। প্রশ্নফাঁসের বিভিন্ন গুজব পড়ালেখার প্রতি তোমাদের নিরবিচ্ছিন্ন মনোসংযোগের প্রধান অন্তরায়। ফেসবুক নির্ভর প্রস্তুতি নিলে এবছর হিতে বিপরীত হতে পারে।
২। মোবাইল ফোন বন্ধ না করলেও সাইলেন্ট করে রেখে দিতে হবে। বন্ধুদের সাথে এখন বেশি যোগাযোগ না করাই ভালো।বাতাসে ভেসে বেড়ানো না না গুজবের প্রধান বাহক এই সব বন্ধুরা।
৩। পরীক্ষার দিনগুলোতে   বাসা কাছে হলে ৯ টায় রওনা দেবে, একটু দূরে হলে সাড়ে আটটায়। যানজটের কথা মাথায় রেখে বাসা থেকে বের হতে হবে। সাড়ে নয়টার মধ্যে অবশ্যই কেন্দ্রে পৌঁছতে হবে।
৪। আজকে  সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে নিজের আসন দেখে আসবে।
৫। এখন হঠ্যাৎ ঝড়ের মৌসুম। ঝড় উঠলে কারেন্ট চলে যাবে। এত ছাত্রছাত্রীদের জন্য কেন্দ্রের পক্ষে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই প্রতি পরীক্ষাতেই মোমবাতি আর দেয়াশেলাই সাথে রাখতে হবে। (বিভিন্ন ধরণের ইলেক্ট্রনিক্স চার্জার লাইট কর্তৃপক্ষ এলাউ নাও করতে পারে।)
৬। প্রথমে দুই প্রকার উত্তরপত্র দিয়ে দিলে  হাজিরা খাতায় এমসিকিউ আর সিকিউ অংশে আলাদা আলাদা সই করবে। সইয়ের পর এমসিকিউ এর ও এম আর নাম্বার লিখবে। এমসিকিউ এর উত্তরপত্র জমা দিয়ে তারপর সিকিউ অংশ লেখার শুরুতে সিকিউ এর ও এম আর নাম্বার হাজিরা শিটে লিখবে। তাতে স্যারদের সময় ম্যানেজমেন্ট ভালো হবে।
৬। একটি এমসিকিউ প্রশ্ন পুরাপুরি পড়ে, সবগুলো অপশন দেখে তারপর বৃত্ত ভরাট করবে।
৭। সিকিউ অংশের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন পড়ে নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিবে কোন গুলার উত্তর দিবে। যেগুলোর প্রস্তুতি ভালো আছে বলে মনে হবে সেগুলো লিখবে।
৮। বাংলা  প্রথমপত্রের এমসিকিউ এর প্রস্তুতি বেশি করে নিতে হবে। দ্বিতীয়পত্রের জন্য ব্যাকরণ অংশ।
ইংরেজি প্রথমপত্রের ফ্লো চার্ট, ক্লোজ টেস্ট উইদাউট ক্লুজ আর rearrangement এই তিন অংশ বেশি বেশি পড়তে হবে। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের গ্রামার অংশের রুলস একনজর উদাহরণসহ দেখে নিতে হবে আর বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নগুলো একবার সলভ করতে হবে। গ্রামার অংশ ভালো পারলে সেই অংশ আগে লিখতে হবে। গ্রামারের সব আইটেম একাধারে শেষ করতে হবে।
৯। রোল, রেজি ইত্যাদি তথ্যের বৃত্ত সময় নিয়ে ভালো করে ভরাট করতে হবে। তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ভুল বৃত্ত ভরাট করে ফেললে কোন কাটাকাটি করা যাবে না। তারপর সঠিক বৃত্তটি ভরাট করতে হবে।
১০। শেষ পাঁচমিনিট তাড়াহুড়ো করে উত্তর না লিখে আগেই লেখা শেষ করে ফাইনাল রিভিশন দিতে হবে। ফাইনাল রিভিশনে রোল, রেজি ইত্যাদি তথ্য আর প্রতিটি প্রশ্নের নাম্বারিং সঠিক আছে কিনা দেখে নিতে হবে।
১১। কোন অবস্থাতেই কোন প্রকারের অসদুপায় অবলম্বনের চিন্তা মাথায় আনা যাবে না। মোবাইল ফোন সাথে রাখার চিন্তা স্বপনেও করা যাবে না।
তোমাদের প্রতি রইল অশেষ শুভ কামনা আর দোয়া।

Wednesday, June 24, 2015

রান্না

রান্না একটা শিল্প । জিহ্বা দিয়ে শুধু এই শিল্পের সমঝদার হলে চলবে না , হাত দিয়েও সে শিল্প সৃষ্টি করতে হবে। বগুড়ায় হাতেমের হেঁশেলে সেই শিল্পেরই চর্চা করলাম আজ সকালে। জীবনে দ্বিতীয়বারের মত মাংস রান্না করলাম। প্রথমবারের মাংস কে বা কারা খেয়েছিল সে কথা জানতে চেয়ে লজ্জা দিবেন না। তবে এইবারের মাংস আমি আর হাতেম খাবো ইনশাল্লাহ।
আমার কাছে রান্নায় সবচেয়ে কঠিন লেগেছে লবণের সঠিক পরিমান নির্ধারণ করা । ভয়ে ভয়ে, চেখে চেখে তিন, চার কিস্তিতে লবণ দিয়েছি। তারপর পানিতে যখন টান ধরল, তখন চেখে দেখি লবণ অনেক বেশি হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি হাতের কাছে থাকা বরবটি কেটে দিলাম খানিকটা । তাই এই পদটাকে বরবটি মাংসের foolfry বলা যেতে পারে। যাহোক, রান্না শেষে কিন্তু বরবটির কোন চিহ্ন খুঁজে পেলাম না।

Thursday, October 30, 2014

সাদা মানুষ

প্রতিদিন না নিয়ে গেলে অথবা দিতে দেরি হলে ছাত্রী আমাকে জিজ্ঞেস করে, "তুমি কি জিনিসটা আনতে ভুলে গেছ? "
আমিও ' জিনিসটা ' আনতে ভুলি না, দিতেও দেরি করি না।
প্রতিদিনের মত আজকেও নিয়ে যাচ্ছিলাম।ডান হাতেরটির দাম এক টাকা আর বামটির দাম দু টাকা।ওদের এলাকায় বিদ্যুত  ছিল না।রাস্তাটা বেশ নিরিবিলি। হঠ্যাৎ ডান হাতেরটি পড়ে গেল। সাথে মোবাইল ছিল না। অন্ধকারে জিনিসটি খুঁজে পাচ্ছিলাম না।পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া ভদ্রলোককে একটু মোবাইলের আলো ফেলতে বললাম। তারপর শুরু হোল হারানো চকললেটের ম্যারাথন খোঁজ -দ্যা সার্চ। উনাকে "ঠিক আছে ভাই আর খোঁজা লাগবে না " যতই বলি, উনি যেন আরো নতুন উদ্যমে খোঁজা শুরু করেন। দুই,  তিন মিনিট হয়ে গেল।তারপর হাল ছেড়ে দিয়ে বিদায় নিলাম।কিছুদুর যাওয়ার পর উনি আবার ডাক দিলেন,  "আসেন ভাই আরেকটু খুঁজি।" এই বার আমার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। এক টাকার হোক, তবুও এই ভদ্রলোকের জন্য জিনিসটি আমার খুঁজে  পেতেই হবে। তাকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ দিতে নতুন উদ্যমে খুঁজতে শুরু করলাম।দাঁড়ানো অবস্থা থেকে দুজনে বসে বসে খুঁজলাম।আতিপাতি করে খুঁজেও পেলাম না।সম্ভবত জিনিসটি ড্রেনে পড়ে গেছে।অবশেষে একরাশ হতাশা নিয়ে ভাইটির কাছ থেকে বিদায় নিলাম। অন্ধকারের জন্য তার মুখটিও দেখা হলো না।এরকম
মানুষ বেঁচে আছে বলে বাংলাদেশ এখনও এতটা কিউট।
পুনশ্চ : রুমে এসে ড্রেস চেঞ্জ করে জিন্সের প্যান্টটা ঝাড়া দিতেই এক টাকার চকলেটটি ছিটকে পড়ল।জিন্সের প্যান্টটি আমি পায়ের দিকে ভাঁজ করে পরে ছিলাম।হাত থেকে পড়ে চকলেটটি ভাঁজের ভিতর লুকিয়েছিল।

Sunday, June 15, 2014

হিন্দু না মুসলিম ওরা -জিজ্ঞাসে কোন জন?

এসব নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের ঘটনায়
ফেবুতে ধর্ম
বা জাতীয়তাকে বেশি গুরুত্ব
পেতে দেখি। কে বেশি প্রতিবাদ করল,
বা কে সংকীর্ণ
দৃষ্টিভঙ্গি কাটিয়ে উঠে প্রতিবাদ
করতে পারল না -এই নিয়েই
মাতামাতি চলে বেশি।
তাতে ফোকাসটা সরে যায়। কথা হল,
প্রতিটি মৃত্যুকষ্ট একই রকম তীব্র।
মুসলমান, হিন্দু, বাংগালি,
রোহিংগা বা বিহারি -সব স্বজনের
বুকফাটা আহাজারি আর কষ্টের ধরণ একই।
তাই কে কোন প্রসংগে নিরব থাকল,
সে কথা না ভেবে প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের
বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান
থেকে আমাদের প্রতিবাদী হওয়া উচিত।
আর কিছুই করতে না পারলে এসব পশুদের
কথা স্মরণ করে অন্তত একদলা থুতু
ফেলা যেতে পারে।

Thursday, May 8, 2014

একটি ঝড়ের সকাল

একটি ঝড়বিধ্বস্ত  সকাল বেলা
দৃশ্য -১ : 'মেনগেট ' থেকে তিনশো/ গজ পূর্বে, রাস্তার পাশে মরে পড়ে আছেন নাম না জানা বৃদ্ধ
দৃশ্য -২ : কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম সাহেবের বাড়ি সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ধসে গেছে।প্রতিবছর দেয়ালের কিছুটা উপরে ঝুলতে থাকা যেসব টসটসে জাম্বুরার দিকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম, তাদের জ্ঞাতি ভাইদের অকালপ্রয়াণ ঘটেছে।
দৃশ্য -৩ :রাস্তায় রাস্তায়  অকাল মৃত্যুপ্রাপ্ত মেধাবী আমগুলো কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।(আমার জিহবায় জল, আমচাষীদের চোখে)
দৃশ্য -৪ : রুয়েটের সামনে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুটি এবং তারের সাথে পেঁচিয়ে আছে।বিদ্যুত বিভাগের লোকজন ভাংগা গাছটাকে নামিয়ে আনার বিষয়ে গবেষণা করছে।
এছাড়া রাস্তায় হাজার সবুজ পাতা পড়ে আছে। রাত থেকে বিদ্যুত নাই।রাস্তা প্রায় অটোশূন্য।
কালবৈশাখী মোটেও রোমান্টিক নয়।